বুলেট বৈরাগীকে মেরে ফেলা হয়েছে।
রাতে কুমিল্লাগামী একটা বাস তাকে স্ট্যান্ডে না নামিয়ে একটু দূরে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে স্ট্যান্ডে ফেরার জন্য একটা অটোবাইকে ওঠে… আর ওই গাড়িতেই—কয়েকটা জিনিস ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য—ওকে মেরে ফেলা হয়।
সত্যি বলতে… আমরা কী রকম একটা দেশে বাস করছি?
শেষবারের মতো স্ত্রীর বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে বুলেট বৈরাগী।
ছবিটা দেখার পর থেকে মাথাটা ঠিক মতো কাজ করছে না।
উর্মী যেভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে… মনে হচ্ছে ছেড়ে দিতে চায় না, বিশ্বাসই করতে পারছে না যে মানুষটা আর নেই।
এই এক আলিঙ্গনের ভেতর কত কথা ছিল—কিছু বলা হয়নি, আর কোনোদিন বলা হবে না।
ভালো থাকবেন দাদা…
এই পৃথিবীটা হয়তো আপনার মতো মানুষের জন্য না।
এখন তো স্বাভাবিকভাবে মারা যাওয়াটাই যেন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে গেছে।
তবুও একটা জিনিস মনে হয়—আপনি ভাগ্যবান ছিলেন।
উর্মীর মতো একজন মানুষকে পেয়েছিলেন। এমন করে কেউ কাউকে ভালোবাসতে পারে—এটা এই সময়ে দেখাও বিরল।
কিছু বলার থাকে না আসলে… একজন মানুষ হারিয়ে গেলে শুধু মানুষটা না, তার সাথে অনেক স্বপ্নও চলে যায়।
যে হারায়, সেই জানে।
উর্মীর ওই আলিঙ্গনটা…
ওটা শুধু বিদায় না, ওটা ভালোবাসার প্রমাণ—শেষ পর্যন্ত।
তোমার ভেতরের এই শূন্যতায় কেউ কোনোদিন পৌঁছাতে পারবে না।
তবুও চাই—পৃথিবীটা তোমার জন্য একটু নরম হোক।
সব নদী, আকাশ, বাতাস—সব যেন তোমার জন্য একটু আলাদা হয়ে যায়।
সত্যি বলতে—এই পৃথিবীটা এখনও টিকে আছে তোমাদের মতো মানুষদের জন্যই।
এই ভালোবাসাগুলার জন্যই।
এইগুলো না থাকলে অনেক আগেই সব ফাঁকা হয়ে যেত।
ছবিটা দেখার পর থেকে একটা অদ্ভুত চুপচাপ ভাব ধরে আছে…
মনে হয় কোথাও সব থেমে গেছে।
উর্মীর জন্য যদি পুরো পৃথিবীর ভালোবাসা এনে দেওয়া যায়—তাও এই ক্ষতি পূরণ হবে না।
উর্মীরা বেঁচে থাকুক।
তাদের ভালোবাসা বেঁচে থাকুক।
কারণ ওরা না থাকলে—
এই পৃথিবীটা আসলেই মিথ্যা মনে হতো।
বিচ্ছেদের এই কষ্টটা শেষ হয় না কখনো…
শুধু মানুষকে বাঁচতে শিখায়—ধীরে ধীরে, ভিতরে ভিতরে…