রাহাত ধীরে ধীরে বাসায় ফিরে এল। তার মাথা যেন কাজ করছিল না।
পুরোনো রেলস্টেশনে যে লোকটার সাথে দেখা হয়েছে, সে কি সত্যিই কোনো বড় নেটওয়ার্কের সদস্য?
সে টেবিলের ওপর ছোট ডিভাইসটা রাখল।
ডিভাইসটা দেখতে অনেকটা ছোট ট্যাবলেটের মতো। স্ক্রিনে একটি লক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
রাহাত কয়েকবার চেষ্টা করল, কিন্তু ডিভাইসটা খুলল না।
ঠিক তখনই স্ক্রিনে হঠাৎ একটি মেসেজ ভেসে উঠল—
“Password Hint: The truth is closer than you think.”
রাহাত কিছুই বুঝতে পারল না।
সে আবার চেষ্টা করল।
হঠাৎ তার মনে পড়ল—গত রাতের ভিডিও ফাইলটির নাম ছিল Truth.mp4।
সে পাসওয়ার্ড হিসেবে লিখল: Truth
স্ক্রিন সঙ্গে সঙ্গে খুলে গেল।
তার সামনে যে তথ্যগুলো ভেসে উঠল, তা দেখে সে অবাক হয়ে গেল।
স্ক্রিনে শহরের বিভিন্ন মানুষের ছবি, ঠিকানা, ব্যাংক তথ্য, ব্যক্তিগত তথ্য—সব কিছু দেখা যাচ্ছে।
রাহাত বুঝতে পারল, এই নেটওয়ার্ক শুধু সাধারণ কোনো দল নয়।
এরা পুরো শহরের গোপন তথ্য সংগ্রহ করছে।
অধ্যায় ৫: অদৃশ্য নজরদারি
পরের দিন সকালে রাহাত ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারল কিছু একটা অস্বাভাবিক।
তার ল্যাপটপ নিজে নিজে চালু হয়েছে।
স্ক্রিনে আবার একটি মেসেজ।
“We are watching you.”
রাহাত আতঙ্কিত হয়ে চারদিকে তাকাল।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল জানালার পাশে একটি ছোট ক্যামেরার দিকে।
সে অবাক হয়ে গেল।
এই ক্যামেরা আগে কখনো এখানে ছিল না।
তার মানে কেউ তার ঘরে ঢুকেছে।
রাহাত দ্রুত ক্যামেরাটা খুলে ফেলল।
কিন্তু তখনই তার ফোনে একটি কল এল।
Unknown Number.
সে কিছুক্ষণ দ্বিধা করে ফোন ধরল।
ওপাশ থেকে শান্ত একটি কণ্ঠ শোনা গেল—
“ক্যামেরা ভেঙে ফেললেও কোনো লাভ নেই।”
“আমরা ইতিমধ্যেই সবকিছু দেখেছি।”
রাহাত চুপ করে রইল।
কণ্ঠটি আবার বলল—
“আজ রাত ১১টায় শহরের পুরোনো লাইব্রেরিতে আসবে।”
“তুমি যদি সত্য জানতে চাও।”
কল কেটে গেল।
অধ্যায় ৬: পুরোনো লাইব্রেরি
শহরের পুরোনো লাইব্রেরিটা অনেক বছর ধরেই বন্ধ।
জায়গাটা অন্ধকার আর ভুতুড়ে।
রাত ১১টার দিকে রাহাত সেখানে পৌঁছাল।
দরজাটা অদ্ভুতভাবে আধখোলা ছিল।
সে ধীরে ধীরে ভিতরে ঢুকল।
চারদিকে ধুলো জমে থাকা বই আর ভাঙা তাক।
হঠাৎ অন্ধকারের ভিতর থেকে একটি মেয়ের কণ্ঠ শোনা গেল—
“তুমি রাহাত?”
রাহাত চমকে উঠল।
অন্ধকার থেকে একটি মেয়ে বেরিয়ে এল।
তার বয়স প্রায় ২৫।
মেয়েটি বলল—
“আমার নাম নীরা।”
“আর আমি Shadow Grid ধ্বংস করতে চাই।”
রাহাত অবাক হয়ে বলল—
“তুমি তাহলে তাদের সদস্য না?”
নীরা মাথা নাড়ল।
“না। আমি তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছি।”
“কারণ তারা শুধু তথ্য চুরি করছে না…”
সে একটু থামল।
তারপর নিচু স্বরে বলল—
“তারা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে।”
অধ্যায় ৭: লুকানো সত্য
নীরা রাহাতকে লাইব্রেরির এক কোণে নিয়ে গেল।
সেখানে একটি পুরোনো কম্পিউটার সেটআপ করা।
নীরা কম্পিউটার অন করল।
স্ক্রিনে একটি মানচিত্র দেখা গেল।
মানচিত্রে শহরের বিভিন্ন জায়গায় লাল চিহ্ন।
রাহাত জিজ্ঞেস করল—
“এগুলো কী?”
নীরা বলল—
“এগুলো Shadow Grid এর সার্ভার লোকেশন।”
“এই সার্ভারগুলোর মাধ্যমে তারা পুরো শহরের তথ্য সংগ্রহ করে।”
রাহাত জিজ্ঞেস করল—
“তুমি এসব জানলে কীভাবে?”
নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল—
“কারণ আমি আগে তাদেরই একজন ছিলাম।”
রাহাত বিস্মিত হয়ে গেল।
“তাহলে তুমি কেন বের হয়ে এলে?”
নীরার চোখে হালকা আতঙ্ক দেখা গেল।
সে বলল—
“কারণ আমি তাদের আসল পরিকল্পনা জেনে ফেলেছিলাম।”
“তারা শুধু শহর না…”
সে নিচু স্বরে বলল—
“পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।”
অধ্যায় ৮: বিপদের শুরু
হঠাৎ লাইব্রেরির বাইরে গাড়ির শব্দ শোনা গেল।
নীরা দ্রুত কম্পিউটার বন্ধ করে দিল।
“ওরা এসে গেছে!”
রাহাত অবাক হয়ে বলল—
“কে?”
নীরা বলল—
“Shadow Grid।”
লাইব্রেরির দরজা জোরে খুলে গেল।
কয়েকজন কালো পোশাক পরা লোক ভিতরে ঢুকল।
তাদের হাতে টর্চলাইট।
একজন বলল—
“ওরা এখানেই আছে!”
নীরা দ্রুত রাহাতের হাত ধরল।
“আমাদের এখনই বের হতে হবে!”
তারা লাইব্রেরির পেছনের দরজা দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে গেল।
বাইরে ঝড় শুরু হয়েছে।
বজ্রপাতের আলোয় রাহাত দেখল—
কালো গাড়ি থেকে আরও কয়েকজন লোক নামছে।
নীরা বলল—
“এই যুদ্ধ এখন শুরু হলো।”
রাহাত বুঝতে পারল—
সে এখন এমন একটি খেলায় ঢুকে পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়া খুব কঠিন।