রাত তখন প্রায় ২টা। চারদিকে নিস্তব্ধতা। শহরের কোলাহল অনেক আগেই থেমে গেছে। শুধু মাঝে মাঝে দূরে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে।
রাহাত তার ল্যাপটপের সামনে বসে ছিল। সে একজন তরুণ ফ্রিল্যান্সার। দিনের বেশিরভাগ সময় সে অনলাইনে কাজ করে। রাত হলেই তার কাজের গতি বাড়ে।
হঠাৎ তার স্ক্রিনে একটি অদ্ভুত নোটিফিকেশন ভেসে উঠল।
“Unknown User: I know what you did.”
রাহাত ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
সে ভাবল হয়তো কোনো স্প্যাম মেসেজ।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আবার মেসেজ এল।
“If you want to stay alive, follow the instructions.”
রাহাতের বুকের ভিতরটা ধক করে উঠল।
সে দ্রুত রিপ্লাই দিল।
“Who are you?”
কিন্তু কোনো উত্তর এল না।
এরপর আবার একটি ফাইল তার স্ক্রিনে ডাউনলোড হয়ে গেল।
ফাইলটির নাম ছিল:
“Truth.mp4”
রাহাত দ্বিধায় পড়ে গেল। ফাইলটি খুলবে কি খুলবে না?
তার মনে হচ্ছিল ব্যাপারটা অস্বাভাবিক।
কিন্তু কৌতূহল তাকে থামাতে পারল না।
সে ভিডিওটি চালু করল।
ভিডিও শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মুখের রঙ বদলে গেল।
কারণ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—
রাহাত নিজেই।
আর সে এমন একটি কাজ করছে যা সে কোনোদিন কারও সামনে প্রকাশ করতে চায়নি।
রাহাতের হাত কাঁপতে শুরু করল।
ঠিক তখনই আবার মেসেজ এল।
“Tomorrow 10 PM. Old railway station. Come alone.”
এরপর আর কোনো মেসেজ এল না।
অধ্যায় ২: অজানা অনুসরণ
পরের দিন সকাল থেকেই রাহাত অস্বস্তি অনুভব করছিল।
সে জানে না কে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে।
তার মাথায় হাজার প্রশ্ন ঘুরছে—
কে তাকে নজরদারি করছে?
ভিডিওটা কোথা থেকে পেল?
কেন তাকে ওই জায়গায় যেতে বলেছে?
সারাদিন সে কাজ করার চেষ্টা করল, কিন্তু মন বসছিল না।
রাত ৯টার দিকে সে সিদ্ধান্ত নিল।
সে যাবে।
সত্যটা জানতে হবে।
পুরোনো রেলস্টেশনটা শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে। অনেক বছর ধরে সেখানে কোনো ট্রেন থামে না।
চারদিকে ভাঙা দেয়াল, মরিচা ধরা লাইন, আর অন্ধকার।
রাহাত যখন সেখানে পৌঁছাল, তার ঘড়িতে ঠিক ১০টা।
চারদিকে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই।
হঠাৎ পেছন থেকে একটি কণ্ঠ শোনা গেল।
“তুমি এসেছো।”
রাহাত ঘুরে দাঁড়াল।
অন্ধকার থেকে একজন লোক ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসছে।
তার মুখ দেখা যাচ্ছে না।
লোকটি বলল—
“তুমি কি জানতে চাও কে তোমাকে খুঁজছে?”
রাহাত গিলে ফেলল।
“হ্যাঁ… তুমি কে?”
লোকটি হাসল।
“আমি কেউ না… কিন্তু আমি এমন একটা নেটওয়ার্কের সদস্য… যেটা পুরো শহরকে নিয়ন্ত্রণ করে।”
রাহাত কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোকটি তার দিকে একটি ছোট ডিভাইস ছুড়ে দিল।
“এটা খুলে দেখো।”
রাহাত ডিভাইসটি অন করল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল—
শহরের শত শত মানুষের গোপন তথ্য।
লোকটি বলল—
“এটা শুধু শুরু।”
তারপর সে একেবারে নিচু স্বরে বলল—
“আজ থেকে তুমি আমাদের খেলায় ঢুকে পড়েছো।”
অধ্যায় ৩: খেলার শুরু
রাহাত বুঝতে পারছিল না সে কী বিপদে পড়েছে।
লোকটি বলল—
“এই নেটওয়ার্কের নাম Shadow Grid।”
“আমরা শহরের সব মানুষের গোপন তথ্য সংগ্রহ করি।”
“আর যখন দরকার হয়… আমরা সেগুলো ব্যবহার করি।”
রাহাত আতঙ্কিত হয়ে বলল—
“তোমরা আমাকে কেন টার্গেট করেছো?”
লোকটি শান্তভাবে উত্তর দিল—
“কারণ তুমি এমন কিছু জানো… যা তুমি নিজেও জানো না।”
রাহাত স্তব্ধ হয়ে গেল।
লোকটি চলে যাওয়ার আগে বলল—
“আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তুমি একটা সিদ্ধান্ত নেবে।”
“আমাদের সাথে কাজ করবে… নাকি আমাদের বিরুদ্ধে।”
“কিন্তু একটা কথা মনে রাখবে—”
“এই খেলায় ঢুকলে বের হওয়ার পথ নেই।”
লোকটি অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
রাহাত একা দাঁড়িয়ে রইল।
দূরে বজ্রপাত হলো।
আর তার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—
Shadow Grid আসলে কী?