রাত ১২টা ৪৫ মিনিট। চারদিকে ঘন কুয়াশা। ছোট্ট একটি গ্রাম্য রেলস্টেশন—নাম কালীপুর স্টেশন।
স্টেশনটিতে সাধারণত রাতে কোনো ট্রেন থামে না। কিন্তু গ্রামের মানুষদের মধ্যে একটি অদ্ভুত গুজব আছে—
প্রতি মাসে একবার, মধ্যরাতে একটি অচেনা ট্রেন এখানে আসে।
কেউ জানে না ট্রেনটি কোথা থেকে আসে, আর কোথায় যায়।
আরও ভয়ের কথা হলো—
যারা সেই ট্রেনে ওঠে, তাদের অনেকেই আর ফিরে আসে না।
অধ্যায় ২: সাংবাদিক আরিফ
আরিফ একজন তরুণ সাংবাদিক। সে রহস্যময় ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করতে ভালোবাসে।
একদিন সে এই অদ্ভুত ট্রেনের গল্প শুনল।
প্রথমে সে বিষয়টা বিশ্বাস করেনি।
কিন্তু কয়েকজন গ্রামবাসী বলল—
“ভাই, আমরা নিজের চোখে দেখেছি। ট্রেন আসে, কিন্তু কোনো নাম লেখা থাকে না।”
এই কথাটা আরিফের কৌতূহল বাড়িয়ে দিল।
সে সিদ্ধান্ত নিল—
আজ রাতেই সে কালীপুর স্টেশনে যাবে।
অধ্যায় ৩: অদ্ভুত আগমন
রাত ১২টা ৫৫।
আরিফ স্টেশনের বেঞ্চে বসে আছে। চারদিকে একেবারে নিস্তব্ধতা।
হঠাৎ দূর থেকে একটি শব্দ শোনা গেল।
ট্রেনের হুইসেল।
আরিফ উঠে দাঁড়াল।
কুয়াশার ভিতর থেকে ধীরে ধীরে একটি কালো ট্রেন এগিয়ে আসছে।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো—
ট্রেনটির কোনো নম্বর নেই।
কোনো নামও নেই।
ট্রেনটি ধীরে ধীরে এসে স্টেশনে থামল।
দরজা খুলে গেল।
ভিতর থেকে এক বৃদ্ধ কন্ডাক্টর বের হলো।
সে আরিফের দিকে তাকিয়ে বলল—
“যেতে চাও?”
আরিফ একটু থমকে গেল।
“কোথায়?”
বৃদ্ধ হালকা হাসল।
“যেখানে সত্য লুকিয়ে আছে।”
অধ্যায় ৪: রহস্যময় যাত্রীরা
আরিফ ট্রেনে উঠল।
ভিতরে ঢুকে সে অবাক হয়ে গেল।
পুরো ট্রেনে মাত্র কয়েকজন যাত্রী।
তাদের মুখগুলো অদ্ভুতভাবে গম্ভীর।
একজন মাঝবয়সী লোক জানালার পাশে বসে আছে।
একজন মেয়ে মাথা নিচু করে বই পড়ছে।
আর এক কোণে একজন বৃদ্ধ চুপচাপ বসে আছে।
আরিফ পাশের সিটে বসে থাকা লোকটিকে জিজ্ঞেস করল—
“এই ট্রেন কোথায় যাচ্ছে?”
লোকটি ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল।
তার চোখে অদ্ভুত দৃষ্টি।
সে বলল—
“যারা এখানে ওঠে… তারা সবাই কিছু খুঁজতে আসে।”
আরিফ বলল—
“আপনি কী খুঁজছেন?”
লোকটি উত্তর দিল না।
শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।
অধ্যায় ৫: অদ্ভুত ঘোষণা
হঠাৎ ট্রেনের ভিতরে স্পিকারে একটি কণ্ঠ শোনা গেল—
“পরবর্তী স্টেশন: স্মৃতি।”
আরিফ অবাক হয়ে গেল।
এটা কেমন স্টেশনের নাম?
ট্রেন ধীরে ধীরে থামল।
জানালার বাইরে তাকিয়ে আরিফ দেখল—
স্টেশনটা দেখতে তার নিজের গ্রামের মতো।
ঠিক তখন পাশের লোকটি বলল—
“এই ট্রেন মানুষের অতীত দেখায়।”
আরিফ চমকে উঠল।
“মানে?”
লোকটি বলল—
“যে স্টেশনে ট্রেন থামে, সেখানে যাত্রীরা তাদের জীবনের এমন কিছু সত্য দেখে… যা তারা ভুলে যেতে চেয়েছিল।”
আরিফের বুকের ভিতরটা ধক করে উঠল।
কারণ তার জীবনেরও এমন একটি ঘটনা আছে—
যা সে কখনো কাউকে বলেনি।
অধ্যায় ৬: সত্যের মুখোমুখি
ট্রেন আবার চলতে শুরু করল।
কিছুক্ষণ পরে আরেকটি ঘোষণা শোনা গেল—
“পরবর্তী স্টেশন: অনুতাপ।”
এইবার সেই মেয়েটি উঠে দাঁড়াল।
তার চোখে পানি।
সে ধীরে ধীরে ট্রেন থেকে নেমে গেল।
আরিফ বুঝতে পারল—
এই ট্রেন শুধু যাত্রী বহন করছে না।
এই ট্রেন মানুষের গোপন সত্য নিয়ে খেলছে।
ঠিক তখন বৃদ্ধ কন্ডাক্টর এসে আরিফের সামনে দাঁড়াল।
সে বলল—
“তোমার স্টেশনও সামনে।”
আরিফ জিজ্ঞেস করল—
“কোন স্টেশন?”
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বলল—
“সত্যের স্টেশন।”
আরিফের মনে ভয় ঢুকে গেল।
কারণ সে জানে—
সেই স্টেশনে নামলে তাকে এমন একটি সত্যের মুখোমুখি হতে হবে…
যা সে এতদিন লুকিয়ে রেখেছে।